Home > টিপস & ট্রিকস > মোবাইল > এন্ড্রয়েড মোবাইল প্রয়োজনীয় কিছু টিপস এবং ট্রিকস

এন্ড্রয়েড মোবাইল প্রয়োজনীয় কিছু টিপস এবং ট্রিকস

আজকাল বেশির ভাগ মানুষই Android মোবাইল ব্যাবহার করে ।এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে, এন্ড্রয়েড মোবাইলের কিছু প্রয়োজনীয় টিপস এবং ট্রিকস শেয়ার করবো

Best mobile tips for android

নিচে দেওয়া মোবাইলের টিপস বা ট্রিকস গুলির মধ্যে হয়তো কিছু আপনার আগেও জানা থাকতেই পারে। কিন্তু, অনেকেই সেই সাধারণ জিনিস গুলিও জানেনা ।

তাই, আমি যে টিপসগুলির ব্যাপারে বলবো, সেগুলি আমার মতে অনেক কাজের এবং কিছু টিপস (tips) সাধারণ হলেও, এন্ড্রয়েড মোবাইল (android mobile) ব্যবহার করা সব ধরণের লোকের সেগুলি জানা প্রয়োজন।

Top Android mobile tips in Bnagla

১. Disable unnecessary pre-installed apps

আমরা যখন একটি এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন (android smartphone) কিনি, তখন তাতে আগের থেকেই কিছু apps install করা থাকে যেগুলি আমরা ব্যবহার করিনা। এবং, এই এপ্লিকেশন (application) গুলি আমাদের মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ স্পেস নিয়ে রাখে এবং background update বা background এ চলতে থাকার ফলে মোবাইলের ব্যাটারী, storage এবং processor ব্যবহার হোতে থাকে।

তাই, অকারণে নিজের মোবাইলের ব্যাটারী এবং স্পিড ক্ষয় হতে না দেয়ার জন্য, আপনি সেই pre-installed apps গুলি Disable করে রাখতে পারেন।

Apps disable করলে, আপনার প্রয়োজন না হওয়া apps গুলি মোবাইল ফোনে থাকা সত্ত্বেও কোনো রকমের কাজ করবেনা । Background এ চলতে থাকা বা ব্যাটারী ব্যবহার করা, এধরণের কাজ apps গুলি করতে পারবে না।

Android apps disable করার জন্য settings >> app manager বা apps এ গিয়ে নির্ধারিত app এ প্রবেশ করে enable বা disable করতে পারবেন।

২. Restrict background data of apps

অনেক রকমের apps কম বেশি পরিমানে  background এ data বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে।background এ ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে আপনার ইন্টারনেট প্যাক (internet pack) দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং আপনি তার কারণ বুঝতে পারেন না ।

তাই, android mobile এর settings অপশনে গিয়ে তার পর Data usage অপশনে গেলে, আপনারা সেই apps এর তালিকা দেখবেন যেগুলি মোবাইলে সব থেকে বেশি ইন্টারনেট ডাটা (internet data) ব্যাকগ্রাউন্ডে (background) ব্যবহার করছে ।

এবং, apps এর তালিকার থেকে, যেই app সব থেকে বেশি background data ব্যবহার করছে তাকে select বা ক্লিক কোরে তাতে থাকা “data” অপশনটি disable করে দিলেই সেই app ব্যাকগ্রাউন্ডে আর ডাটা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করবেনা ।

৩. মোবাইলের ব্যাটারির আয়ু বাড়ান

মোবাইল চার্জে (charge) দিয়ে ব্যবহার করবেন না। এতে, মোবাইলের ব্যাটারিতে খারাপ প্রভাব পরে এবং অনেক তাড়াতাড়ি ব্যাটারি খারাপ হয়ে যেতে পারে।

তাছাড়া, আপনার android mobile এ সব সময় ৯২% বা তার থেকে কম চার্জ দিবেন এবং ২০% থাকলে ব্যবহার করবেন না।

সম্পূর্ণ ১০০% চার্জ হয়ে গেলে, চার্জার টা মোবাইল থেকে খুলে ফেলবেন । নাহলে, ব্যাটারিতে চাপ পরে।

মোবাইলের ব্যাটারির সাথে জড়িত এই টিপস গুলি মেনে চললে, আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইলের ব্যাটারী অনেক বছর ভালো ভাবে কাজ করবে।

৪. ইন্টারনাল স্টোরেজ ফ্রি করুন

মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ (internal storage) যখন সম্পূর্ণ ভাবে শেষের দিকে এসে পরে, তখন কিছু এপস ইনস্টল (apps install) করতে গেলেই, “Low internal storage” এর একটি মেসেজ চলে আসে। ফলে, নতুন এপস মোবাইলে ইনস্টল করাটা অসম্ভব হয়ে পরে।

তাছাড়া, মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ লো হয়ে গেলে বা অনেক কমে গেলে, মোবাইল স্লো কাজ করে এবং কিছু ক্ষেত্রে হ্যাং (hang) হওয়া শুরু করে।

তাই, কিছু সাধারণ টিপস মেনে চলে মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ স্পেস (internal storage space) বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

  • Delete unnecessary apps – সবার আগে আপনার মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ থেকে অপ্রয়োজনীয় Apps ডিলিট করুন। যেসব, Apps আপনি ব্যবহার করেন কেবল সেগুলি মোবাইল ফোনে রাখুন।
  • Shift media to memory card – যদি আপনার মোবাইলে অনেক video বা music file থাকে , তাহলে সেগুলি একটি external memory card এ transfer করুন। কিছু টাকার মধ্যেই আপনারা একটি ১৬ জিবি memory card বাজারে পেয়ে যাবেন।
  • Clean apps cache data – প্রত্যেকটি apps আপনার মোবাইলের কিছু জায়গা ক্যাশ ডাটা (cache data) হিসেবে নিয়ে রাখে। তাই, মাঝে মধ্যে এই ক্যাশে ডাটা ডিলিট করে আপনারা মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ বাড়িয়ে নিতে পারেন। settings >> manage apps বা installed apps বা apps এ গিয়ে এক এক করে app এ প্রবেশ করে storage থেকে cache delete বা delete data অপশনে গিয়ে মোবাইলে ক্যাশ ডাটা ডিলিট করতে পারবেন।

৫. Reboot your smartphone

যেভাবে, আমাদের শরীরে ঘুমের প্রয়োজন এবং ঘুমালে আমরা fresh এবং সক্রিয় মনে করি ঠিক সেভাবেই একটা স্মার্টফোনও মাঝে মাঝে রিস্টার্ট (restart) বা রিবুট (reboot) করলে, সে fresh এবং আবার সক্রিয় (active) হয়ে উঠে।

আপনি নিজেই দেখবেন, যখন আপনার মোবাইল বেশি হ্যাং (hang) হয় বা স্লো (slow) কাজ করে, তখন তাকে একবার restart বা reboot করে দিলেই সে আবার দ্রুত কাজ করা শুরু করে।

তাই, আপনার android smartphone দিনে একবার হলেও reboot বা restart করবেন। এতে, মোবাইলের কর্মক্ষমতা হটাৎ ভালো হয়ে উঠবে ।

৬. Make smartphone stylish

আপনারা অনেকে launcher apps এর ব্যাপারে জানেন না । বিভিন্ন Launcher aaps যেমন Nova launcher বা Go launcher বা আরো অনেক রকমের ফ্রি launcher apps এন্ড্রয়েড মোবাইলে ইনস্টল করে বিভিন্ন themes এর দ্বারা স্মার্টফোনের LOOKS CUSTOMIZE, icon, home screen customize করতে পারেবেন।এভাবে আপনার মোবাইল আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন ।

৭. মোবাইলের স্ক্রিন রেকর্ড করুন

আপনারা যদি  YouTube tutorial videos  বানান তাহলে এন্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করে স্ক্রিন রেকর্ড করে স্ক্রিনের ভিডিও বানানোর প্রক্রিয়া আপনাদের অনেক কাজে আসবে।

গুগল প্লে স্টোরে  গিয়ে,  AZ screen recorder  বা  Mobizen screen recorder app  এর মধ্যে যেকোনো একটি নিজের মোবাইলে ডাউনলোড এবং ইনস্টল কোরে, আপনারা android মোবাইলের স্ক্রিন ভিডিও হিসেবে রেকর্ড করতে পারবেন।

৮. মোবাইলে antivirus apps ব্যবহার

একটি android mobile কেনার পর আমরা তাতে অনেক রকমের apps বা files ব্যবহার করি এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে visit করাটাতো সাধারণ কথা।

কিন্তু আপনারা জানেন, ইন্টারনেটে এমন অনেক ওয়েবসাইট, apps বা files  আছে যেগুলো আপনার মোবাইল-এ  malware, spyware, adware বা Trojan এর মত শক্তিশালী virus ছরিয়ে দিতে পারে । এসব virus আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা নষ্ট করে ফেলতে পারে , মোবাইলকে slow করে দিতে পারে ।

তাই, অবশই নিজের এন্ড্রয়েড মোবাইলে একটা ভালো এন্টিভাইরাস app ব্যবহার করবেন। যাতে, বাইরে থেকে আপনার মোবাইলে কোনো রকমের ক্ষতিকারক ভাইরাস না ঢুকতে পারে।

৯. Clean master app এর ব্যবহার

আমাদের মোবাইল কিছুদিন ব্যবহার করার পরেই, তাতে অনেক ধরণের junk files, cache files বা app ডাটা জমা হয়ে যায়।

এবং, এই অপ্রয়োজনীয় ডাটা গুলি মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ ভর্তি করে রাখে। তাছাড়া, মোবাইল স্লো হওয়া বা হ্যাং মারা, এরকম সমস্যায় আপনারা পরবেন যদি এই অপ্রয়োজনীয় ডাটা গুলি মোবাইলে জমা হতে থাকা।

তাই, clean master app ব্যবহার করে কেবল এক ক্লিকেই মোবাইলের সব ধরণের অপ্রয়োজনীয় ডাটা বা ফাইল ডিলিট করে স্টোরেজ (storage) বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

তাছাড়া, RAM clean করে মোবাইল ফাস্ট করার জন্য phone boost অপসন এখানে রয়েছে। Boost করার পর আপনি নিজেই মোবাইলের স্পিড বুঝতে পারবেন।

১০. Use find my phone feature

গুগলের এন্ড্রয়েড মোবাইলের একটা বিশেষ ফীচার (feature) রয়েছে। সেটা হলো, Google find my device. এই ফীচার ব্যবহার করে আপনারা নিজেরাই হারিয়ে যাওয়া এন্ড্রয়েড মোবাইলের লোকেশন (location) খুঁজে বের করতে পারবেন।

হ্যা , আপনার android মোবাইল যদি হারিয়ে যায়, তাহলে Google find my device এর ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া মোবাইলে যেই google account registered ছিল সেই Google বা gmail আইডি দিয়ে লগইন (login) করতে হবে।

এর পর, গুগল আপনার হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের লোকেশন (location) ম্যাপ (map) এর মাধ্যমে দেখিয়ে দিবে এবং, মাপের মাধ্যমে আপনার মোবাইলটি কোথায় থেকে কোথায় যাচ্ছে বা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটাও জানতে পারবেন।

তাছাড়া, এর “Play sound” ফীচার ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া মোবাইলে আওয়াজ (sound) করতে পারবেন।

এর “Erase device” ফাঙ্কশন ব্যবহার করে মোবাইলের সব ডাটা বা ফাইল ডিলিট করে দিতে পারবেন। কিন্তু, তারপর আপনি মোবাইলটিকে আর লোকেট (locate) করতে পারবেন না।

১১. Android mobile root করুন

আপনারা android মোবাইল রুট করার কথাতো অবশই শুনেছেন। মোবাইল রুট করার পর কিছু বিশেষ ধরণের apps বা features এন্ড্রয়েড মোবাইলে ব্যবহার করা যায় যেগুলি রুট ছাড়া মোবাইলে কাজ করবে না।

তাছাড়া, মোবাইল রুট করার পর তার UI (User interface) বদলে তাকে আরো আকর্ষণীয় বানাতে পারবেন। মোবাইলে বিভিন্য stock ROM ইনস্টল করতে পারবেন। এবং, মোবাইলের pre-installed apps ডিলিট করতে পারবেন।

১২. Portable Wifi হটস্পট (hotspot) এর ব্যবহার

আমাদের মোবাইলের সেটিংস (settings) অপশনে থাকা “personal/Portable hotspot” অপশনটি কি এবং এর কাজ কি, এব্যাপারে অনেকেই হয়তো জানেন না।

আসলে, যখন আমরা মোবাইলে wifi hotspot option টি on বা চালু করে দেয়, তখন অন্য কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলে wifi চালু করে যেকেউ আপনার চালু করা hotspot connection থেকে ইন্টারনেট বা ডাটা ব্যবহার করতে পারবে।

একটি মোবাইল থেকে অন্য মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট শেয়ার (share) করার জন্য wifi hotspot অপশনের ব্যবহার করা হয়।

১৩. Use Dual apps feature

আজকালকার নতুন মডেলের android mobile গুলিতে Settings option এ “Dual apps“, “Duplicate app” বা “app clone” বলে একটা function দেয়া থাকে।

এই feature ব্যবহার করে একটি মোবাইলে দুটি একই app ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন, একটি মোবাইলে দুটি হোয়াটস্যাপ (whatsapp) একাউন্ট ব্যবহার করা।

১৪. OTG cable এর ব্যবহার

এন্ড্রয়েড মোবাইলে OTG ক্যাবল (cable) ব্যবহার কোরে আপনারা মোবাইলেই pendrive, mouse, keyboard বা গেম খেলার জন্য game pad ব্যবহার করতে পারবেন। তাছাড়া, আজকাল অনেক ধরণের ছোট ছোট গ্যাজেট (gadget) বের হয়ে গেছে যেগুলি আপনারা OTG cable এর মাধ্যমে android মোবাইলে ব্যবহার করতে পারবেন।

১৫. Reset / restore factory settings

আপনারা নিজের মোবাইলের settings option এ “Restore data“ বা “factory reset“ বা “Restore” এরকম ধরণের একটি অপশন পেয়ে যাবেন। এই অপসন ব্যবহার করে মোবাইলের সব ডাটা এবং ফাইল ডিলিট কোরে তাকে আবার কেনা অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবেন।

মানে, যখন আপনার মোবাইল কেনার সময় একেবারে ফাস্ট এবং দ্রুত ছিল সেই অবস্থায়। কিন্তু, মনে রাখবেন, এই function ব্যবহার করার পর, আপনার মোবাইলের সব কিছু ডিলেট হয়ে যাবে যা যা আপনি নিজের থেকে মোবাইলে ইনস্টল করেছেন বা রেখেছেন।

তাহলে বন্ধুরা, আশা করি আমার এই এন্ড্রয়েড মোবাইলের কিছু  জরুরি টিপস এবং ট্রিকস আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশই শেয়ার করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *