Technology

DDR2, DDR3, DDR4 র‌্যাম কি | কম্পিউটারের র‌্যাম সম্পর্কে বিস্তারিত

0

আস্সালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা । আজকের প্রযুক্তি’তে সবাইকে স্বাগতম । আশাকরি সবাই ভালো আছেন । আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করবো বিভিন্ন প্রকারের র‌্যাম নিয়ে । তো চলুন শুরু করা যাক ।

যা দ্বারা Random Access Memory কে নির্দেশ করা হয় অথবা আপনি একে র‌্যাম এর পূর্ণরুপ বলতে পারেন। একে আমরা অস্থায়ী স্মৃতি বলতে পারি। কেননা অপারেটিং সিস্টেম চলার সময় র‌্যাম বেশকিছু প্রোগ্রাম সংরক্ষণ করে যা অপারেটিং সিস্টেম কে চলতে সাহায্য করে। কিন্তু কমপিউটার বন্ধ করে দিলে বা RAM এ বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে র‌্যাম এ থাকা সকল তথ্য মুছে যায়। তাই তো একে অস্থায়ী স্মৃতি বা ভোলাটাইল মেমোরি বলা হয়। তাহলে তো বুঝতেই পারলেন, র‌্যাম যত বেশি হবে, সিস্টেম তত গতিশীল হবে।

আমাদের বাজারে মূলত ২ ধরনের র‌্যাম পাওয়া যায়

১* SD (Synchronous Dynamic)
২* DDR (Double Data Rate)

এদের মধ্যে DDR (Double Data Rate) সবচেয়ে ভাল। DDR1, DDR2, DDR3 RAM বাজারে পাওয়া যায়। DDR3 RAM এর কাজের গতি সবচেয়ে বেশি। নিচের দিকে খেয়াল করুন

Memory Bus Speed Module

DDR-2:

DDR2-400 200MHz PC2-3200
DDR2-533 266MHz PC2-4200
DDR2-667 333MHz PC2-5300
DDR2-800 400MHz PC2-6400
DDR2-1066 533MHz PC2-8500

DDR-3:

DDR3-800 400MHz PC3-6400
DDR3-1066 533MHz PC3-8500
DDR3-1333 667MHz PC3-10600
DDR3-1600 800MHz PC3-12800
DDR3-1866 933MHz PC3-14900
DDR3-2133 1066MHz PC3-17000

একনজরে ৪ প্রকারের র‍্যামের ফ্রিকুয়েন্সি ও ভোল্টেজ তালিকা:

DDR/DDR1 RAM এর Frequency ১০০-৪০০ MHz এবং Voltage : ২.৫-২.৬ ,
DDR2 RAM এর Frequency ৫৩৩-৮০০ MHz এবং Voltage : ১.৮
DDR3 RAM এর Frequency ০৬৬-১৩৩৩ or higher MHz এবং Voltage : ১.৫
DDR4 RAM এর Frequency ৮০০-২১৩৩ MHz এবং Voltage : ১.২

এইবার আমি আর একটু ভেঙ্গে বলি। আপনি যে কোন RAM এর Module দেখে RAM এর সবকিছু বুঝতে পারবেন। যেমন PC3 নির্দেশ করে যে এটি একটি DDR3 Memory এর RAM। আর 8500 নির্দেশ করে যে এর ব্যান্ডউইথ হচ্ছে 8.5GB/Sec. প্রতিটি RAM এর প্যাকেট এ এই Module নাম্বার দেয়া থাকে।

কিছু কথা :

আপনি আপনার মাদারবোর্ডে যতটুকু Bus Speed এর RAM সাপোর্ট করে, আপনি ততটুকু Bus Speed এর RAM কিনুন। কারন আপনি যদি তার থেকে বেশি Bus Speed এর RAM কিনেন তাহলে তা সম্পূর্ণ কাজ করবে না। একটা উদাহারন দিয়ে সহজ করে দেই। আপনার মাদারবোর্ড যদি DDR3-1066 Bus Speed এর RAM সাপোর্ট করে, কিন্তু আপনি যদি DDR3-1333 Bus Speed এর RAM কিনেন তাহলে তা কাজ করবে DDR3-1066 Bus Speed এ। ফলাফল কি হল। টাকা খরচ হল কিন্তু সেই অনুপাতে Performance পেলেন না। তবে চিন্তা করার কিছু নাই। আজকাল ইন্টেল ছাড়া প্রায় সকল মাদারবোর্ড DDR3-2200 এর মত Bus Speed সাপোর্ট করে। আর কম Latency এর RAM কিনার চেষ্টা করবেন। Latency হচ্ছে RAM এ ডাটা এক্সেস করার সময়। Latency কম হলে RAM এ কম সময় ডাটা অবস্থান করবে। ফলে তা দ্রুত কাজ করবে। আর ডুয়াল চ্যানেল এর মাদারবোর্ডে একই মডেলের দুটি জমজ RAM ব্যাবহার করলে ডাটা ট্রান্সফার এর গতি দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
DDR শব্দটির কথা শুনলেই র‍্যামের কথা মনে পড়ে যায় । কম্পিউটারের র‍্যাম পরিবর্তন করতে গেলে প্রথমেই জিজ্ঞেস করে ডিডিয়ার কত দিব ভাই ? আমাদের সাবলিল উত্তর থাকে ২,৩,৪ ইত্যাদি ।
কিন্তু আসলে নিজেরাও জানি না কি এই ডিডিআর ?

DDR এর পূর্ণ অর্থ হচ্ছে Double Data Rate , RAM এর Frequency এবং Voltage বিচারে Data Rate এর Update Face বা উন্নত রূপকে DDR, DDR2, DDR3- এভাবে নামকরণ করা হয়।৯০ দশকের শুরুতে কম্পিউটার যখন খুব শক্তিশালি হতে শুরু করে তখন বিভিন্ন রকম সমস্যার সৃষ্টি হতে শুরু করে। এর সমাধানের লক্ষ্যে এসডির‍্যাম বা সিনক্রোনাস ডাইনামিক র‍্যানডম এক্সেস মেমোরির উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময়ের র‍্যাম প্রযুক্তিটি নির্ভর করত ডির‍্যামের উপর। এই ডির‍্যাম ব্যবহার করত অ্যাসিনক্রোনাস ইন্টারফেস। অর্থাৎ, মেমরিগুলো প্রসেসর থেকে আলাদা বা মুক্তভাবে ভাবে কাজ করত। এর ফলে প্রসেসরের সকল নির্দেশ মেনে চলতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যেত। এসডির‍্যাম এই পদ্ধতিটিকে সরল করে ফেলে। সিস্টেম বাস যে সকল নির্দেশ দিত সে সেগুলোকে একটা কিউতে রেখে দিত এবং একটা শেষ হলে আরেকটা শুরু করতো। এভাবে কম্পিউটার পূর্বের চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে কার্য সম্পাদন করতে শুরু করে। ৯০ দশকের শেষে এই ধরণের মেমরিকে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে সকল কম্পিউটারে ব্যবহার শুরু হয়। কম্পিউটারের দ্রুত বিস্তারের সাথে সাথে সমস্যা শুরু হয় এর গতি নিয়ে। ডিডিআর এর পূর্ণরূপ ডাবল ডেটা রেট। ২০০০ সালে এই পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়। এতে ১৮৪ পিনের ডিআইএমএম ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সফার রেট এসডির‍্যামের দ্বিগুণ হয়। আরও যে সুবিধাটি যোগ হয় তা হল, মেমোরি নিম্ন ক্লক রেটে কাজ করে এবং অল্প শক্তি ব্যয় করে কিন্তু গতি বাড়িয়ে দেয়। ২০০৩ এ যুক্ত হয় ডিডিআর ২। ডিডিআর ২ তে তথ্য আদানপ্রদান হার আরও দ্রুতগতির এবং ডিডিআর ৩ এ এই হার আরও বেড়ে যায়। দইু ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয় ২৪০ পিনের ডিআইএমএম। ডিডিআর ৩’র ট্রান্সফার রেট ২১৩৩ এমটিপিএস, যা ডিডিআর ২ এর দ্বিগুণ। অনেক কম শক্তিতে এটি কাজ করতে পারে, এমনকি ১.৫ ভোল্টে এটি চলতে পারে। এর গতি ৪০০-১০৬৬ মেগাহার্জ পর্যন্ত হয়।
বর্তমানে বাজারে চলছে ডিডিআর ৪ , ২০২০ সাল নাগাত ডিডিআর ৫ বেড় হবে বলে ঘোষনা দিয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠান , সেটির ক্ষমতা এর থেকে যে বেশী হবেই তা আর বলার অবকাশ রাখে না ।

আজকের মতো এই পর্যন্তই । আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন । নিত্য-নতুন টিপস পেতে সবােই আজকের প্রযুক্তির সাথেই থাকুন । ধন্যবাদ

আরো পড়ুনঃ

যেভাবে আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলে র‌্যাংক করাবেন

খুব সহজেই আপনার এনড্রয়েড মোবাইলকে যেভাবে আপডেট করবেন

যেভাবে WordPress সাইটের জন্য Google Hosted Adsense একাউন্ট দিয়ে এপ্লাই করবেন

Sojol Rana
I am a simple person

GEFORCE RTX 2080Ti বাংলা রিভিউ | গেমার্সদের জন্য সেরা গ্রাফিক্স কার্ড

Previous article

কিছু সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে বাড়িয়ে নিন WiFi-এর স্পিড

Next article

You may also like

Technology

খুব সহজেই দেখে নিন কবে আপনার Gmail Account তৈরি করা হয়েছে

আস্সালামুয়ালাইকুম । আজকের প্রযুক্তির আরো একটি নতুন টিউটোরিয়ালে সবাইকে স্বাগতম । এই পোস্টে আলোচনা করবো কিভাবে দেখবেন যে কবে আপনার Gmail Account তৈরি ...
Technology

রেডমি নোট ৭ প্রো vs গ্যালাক্সি এ৫০ কোনটা সেরা ?

আস্সালামুয়ালাইকুম । আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করবো শাওমি রেডমি নোট ৭ প্রো এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫০ এই দুটি ফোনের মধ্যে কোনটি সেরা তা ...

Comments

Leave a reply